Homeনোয়াখালীরায়পুরলক্ষ্মীপুর

দালাল বাজার খোয়া সাগর দীঘি ।

স্বচ্ছ জল, আকাশের নীলাভ দৃশ্য আর চারপাশের সবুজে ঘেরা অপরূপ প্রকৃতিতে মিশে একাকার লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার খোয়া সাগর দীঘি। এ যেন প্রকৃতি,পাখি আর পর্যটকদের মিলন-মেলা ।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর রায়পুর সড়কের পূর্বপাশে বিশাল আয়তনের একটি দিঘী আছে; যার নাম খোয়া সাগর দিঘী।

খোয়া মানে কুয়াশা অর্থাৎ দীঘিটি আয়তনে এতই দীর্ঘ যে এর একপ্রান্ত থেকে অন্য-প্রান্তে তাকালে কুয়াশাময় মনে হয় বলে এর নামকরণ হয় খোয়াসাগর দিঘী। দুই শতাধিক বছর পূর্বে আশপাশের এলাকা মাটি ভরাট এবং মানুষের ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের প্রয়োজনে দালাল বাজারের জমিদার ব্রজবল্লভ রায় দীঘিটি খনন করেন। এ দীঘির সাথে একটি রূপকথার গল্প জড়িয়ে আছে। জানা যায়, একবার এক বরযাত্রী তাদের নববধূকে নিয়ে দীঘির পাড় দিয়ে যাচ্ছিল। সে সময় বর যাত্রীদের পানির পিপাসা পেলে তারা যাত্রা বিরতি দিয়ে দিঘীতে নেমে পানি পান করেন। নববধূও নেমেছিল পানি পান করার জন্য। কিন্তু যখন নববধূটি অঞ্জলি ভরে পানি পান করতে যাচ্ছিল-অমনি তার পা দুটি ধরে কে যেন তাকে নিচের দিকে টেনে নিয়ে যায়। বধূটি আর ফিরে আসেনি। সেই থেকে ঐ স্থানটিতে গভীর গর্ত হয়ে আছে। প্রচণ্ড খরায় সারা দীঘি শুকিয়ে গেলেও ঐ স্থানটি শুকায় না।

 

দালাল বাজার খোয়া সাগর দীঘি

আরো পড়ুন-মজু চৌধুরী হাট  click

খোয়া সাগর দিঘীর অল্প পশ্চিমে কোদাল ধোয়া দীঘি নামে আরেকটি দিঘী আছে। কথিত আছে যে খোয়াসাগর দিঘী খনন করে শ্রমিকরা কোদাল ধুতে এসে দৈনিক এক কোপ মাটি কেটে ঐ দিঘী খনন করে।

 

পর্যটন মন্ত্রণালয় ও লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে দিঘীর উত্তর ও পশ্চিমের একাংশ প্যালাসাইটিং দিয়ে পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। এজন্য কয়েকটি পাকা বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়। সৌন্দর্য রক্ষার্থে একটি গোলঘর নির্মাণ করা হয় খোয়াসাগর  দিঘীর পশ্চিম পাড়ে। এছাড়া বসার জন্য বেশ কয়েকটি পাকা বৃত্তাকার বেঞ্চ রয়েছে। বসার স্থানে সড়কের পাশে ১৩টি সোলার ল্যাম্পপোস্ট লাগানো হয়।

এতে রাতেও দিঘীর সৌন্দর্য মানুষের মন কাড়ে। আর খোয়াসাগর দিঘীর পাড়ের দক্ষিণা বাতাস মানুষকে প্রশান্তির শহরে ভাসিয়ে নেয়।

 

 

লক্ষ্মীপুর জেলাকে জানতে পড়ুন click

 

Related Articles

how do you feel about this website ?

Back to top button
%d bloggers like this: