Home

লক্ষ্মীপুর কমলনগর পিআইও অফিসের টাকা গেল কই ? নিজেদের বিষয় বলছেন পিআইও রিয়াদ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি ঃ লক্ষ্মীপুর কমলনগর উপজেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রিয়াদ হোসেনের কার্যালয় থেকে ২২ লাখ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য পিআইওর সঙ্গে নিজ অফিসের কর্মচারীদের সাথে কথাবার্তা হয়। কিন্তু কোন ধরনের সমাধান না হওয়ায় অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুল বাকের এবং মেহেদী হাসানসহ ৪ কর্মচারীকে থানায় ডাকা হয়েছে। ৪ জনের মধ্যে মেহেদী হাসান পিআইও এর একান্ত জন । রিয়াদ হোসেন রামগতি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা। কমলনগর উপজেলার শূন্যপদে তিনি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন । ২২ লক্ষ টাকা চুরিকে কেন্দ্র করে পিআইও রিয়াদের বিরুদ্ধে থলের বিড়ালের মত বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নিতী প্রকাশ হতে শুরু করে । তবে টাকার পরিমান কেউ  বলতে পারেনা । কেউ বলছে ১৭ লাখ কেউ বলছে ২২ লাখ আবার পিআইও নিজে বলছেন ৫ লাখ টাকা থেকে একটু বেশি ।  এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঠিকাদারের অভিযোগ, পিআইও রিয়াদ প্রত্যেকটি কাজেই ঘুষ নেয়। ঘুষ ছাড়া তিনি কোন ফাইল বা বিলের চেকে সই করেন না। সম্প্রতি অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর আবদুল বাকের তার টিএ বিলে স্বাক্ষর চাইতে গেলে বিলের অর্ধেক দাবি করেন পিআইও । রাগে ক্ষোভে বাকের স্বাক্ষর নেয়নি । এছাড়াও পিআইও রিয়াদ তার অফিসের কর্মচারীদের বিভিন্ন রকম হয়রানি করেন বলেও খবর পাওয়া যায়। রবিবারে তার নিজ অফিসের আলমারি থেকে টাকা চুরি হয় বলে খবর পাওয়া যায় । নিয়ম অনুযায়ী পিআইও’র কার্যালয়ে নগদ টাকা থাকার কথা নয়। তিনি ঠিকাদারদের টাকা চেকের মাধ্যমে দেবেন। টেন্ডারের পে-অর্ডারও চেকের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন , তার কার্যালয়ে এত টাকা কোথায় থেকে আসলো ? আর টাকাগুলো কিসের টাকা ? টাকা চুরি হওয়ার পরও কেন তিনি থানায় লিখিত কোন অভিযোগ করতে পারছেননা । সরকারি কোষাগারের টাকা চুরি হলে কেন সেটা নিজস্ব ব্যাপার হবে ? হয়তো টাকা গুলো কালো টাকা যার জন্য তিনি পরিস্কারভাবে কোন অভিযোগ করতে পারছেন না। উল্টো ৪ জন কর্মচারীকে থানায় নিয়ে হেনস্তা করা হচ্ছে। নিজের দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে অন্যের ওপর । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউপি চেয়ারম্যানসহ একাধিক ব্যাক্তি জানান, জুন ক্লোজিং উপলক্ষে পিআইও তাদেরকে কমিশন দিতে বাধ্য করা করেছেন। পি আইও অফিসের কার্যসহকারি মেহেদি বলেন , আমাদের অফিসের কম্পিউটার মেরামতের ২ লক্ষ টাকা আলমারিতে ছিলো বাকের ভাই টাকাটা সরিয়ে রেখেছে । তিনি স্বীকার করেছেন এখন সমাধান হয়েছে । বিষয়টি সম্পর্কে  জানতে বাকেরের ফোনে কল দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি । আবদুল বাকেরের স্ত্রী শারমিন আক্তার বলেন, হঠাৎ করে বিকেলে পিআইও নিজেই আমাদের বাসায় গিয়ে টাকা খোঁজার নামে তল্লাশি চালায়। এসময় পিআইও বাসার আসবাবপত্র উলোটপালট ও ভাঙচুর করেছেন । ধমকের সাথে কথা বলছেন । আমার স্বামী আব্দুল বাকের কোন দোষ করেনি। পিআইও আমার স্বামীকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে । ২২ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে পিআইও আমার স্বামীসহ ৪ জনকে থানায় নিয়ে আটক করে রেখেছে। অভিযুক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রিয়াদ হোসেন সত্যতা স্বিকার করে বলেন, ২২ লাখ টাকা না ৫ লাখ টাকা থেকে কিছু বেশি তবে এটা আমাদের নিজেদের ব্যাপার আমরা সমাধান করে নেব । এ ব্যাপারে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন বলেন, থানায় চারজনকে ডাকা হয়েছে। তবে পিআইও কোন লিখিত অভিযোগ দেননি। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত আমি টাকার বিষয়ে কিছু বলতে পারছি না। কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, চুরির বিষয়টি সত্য , তবে কত টাকা সেটা বলতে পারবোনা । পিআইও সহ চারজনকে থানায় ডাকার কথা আমি শুনেছি। এটা তাদের নিজেদের বিষয় থানার ওসি বিষয়টা সমাধান দিবেন ।

Related Articles

how do you feel about this website ?

Back to top button
%d bloggers like this: