Homeনোয়াখালীরামগঞ্জরামগতিরায়পুরলক্ষ্মীপুর

লক্ষ্মীপুর জেলা

লক্ষ্মীপুর জেলা

লক্ষ্মীপুর জেলা নামকরণ –

লক্ষ্মীপুর জেলার নামকরণ নিয়ে কয়েকটি মত প্রচলিত রয়েছে।
১. লক্ষ্মী, হিন্দু ধর্মানুসারে ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যের দেবী (দুর্গা কন্যা ও বিষ্ণু পত্নী) এবং পুর হল শহর বা নগর। এ হিসাবে লক্ষ্মীপুর এর সাধারণ অর্থ দাঁড়ায় সম্পদ সমৃদ্ধ শহর বা সৌভাগ্যের নগরী। ঐতিহাসিক কৈলাশ চন্দ্র সিংহ রাজমালা বা ত্রিপুরার ইতিহাস লিখতে গিয়ে তৎকালীন নোয়াখালীর পরগণা ও মহালগুলোর নাম উল্লেখ করেছেন। এতে দেখা যায়, বাঞ্চানগর ও সমসেরাবাদ মৌজার পশ্চিমে লক্ষ্মীপুর নামে একটি মৌজা ছিল। আজকের পশ্চিম লক্ষ্মীপুর মৌজাই তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজা।

২. আবার অন্যমতে, সম্রাট শাহজাহানের পুত্র শাহ সুজা আরাকান পলায়নের সময় ১৬২০ খ্রিষ্টাব্দের ৬ মে ঢাকা ত্যাগ করেন। তিনি ধাপা ও শ্রীপুর হয়ে ৯ মে লক্ষ্মীদাহ পরগনা ত্যাগ করে ভুলুয়া দুর্গের ৮ মাইলের মধ্যে আসেন। ১২ মে ভুলুয়া দুর্গ জয় করতে না পেরে আরাকান চলে যান। সেই লক্ষ্মীদাহ পরগনা থেকে লক্ষ্মীপুর নামকরণ করা হয়েছে বলে কেউ কেউ ধারণ করেন। লক্ষ্মীপুর শহরের পূর্ব পাশে শাহ সুজার নামানুসারে একটি সড়কের নামকরণ করা হয় সুজা বাদশা সড়ক। বিখ্যাত সাংবাদিক ও সাহিত্যিক সানাউল্লাহ নূরী সুজা বাদশা সড়ক নামে একটি ইতিহাস গ্রন্থও রচনা করেছেন।

৩. ১৬১৪ খ্রিষ্টাব্দে মগ ও ফিরিঙ্গীদের মিলিত বাহিনী ভুলুয়া, ভবানীগঞ্জ ও ইসলামাবাদ আগুন দিয়ে পুড়ে দেয়। স্যার যদুনাথ সরকার এ সংক্রান্ত বর্ণনায় লিখেছেন, ইসলামাবাদ চাটগাঁ শহর নয়। ভুলুয়ার পশ্চিমে একটি দুর্গ সমৃদ্ধ শহর। ঐতিহাসিক ড. বোরাহ ইসলামাবাদকে লক্ষ্মীপুর বলে ধারণা করেছেন। এভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় যে, তৎকালীন লক্ষ্মীপুর মৌজার অংশ মেঘনা পাড়ের দুর্গ সমৃদ্ধ কামানখোলাই ইসলামাবাদ নামের মগ ও ফিরিঙ্গীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

৪. শ্রী সুরেশ চন্দ্রনাথ মুজমদার রাজপুরুষ যোগীবংশ নামক গবেষণামূলক গ্রন্থে লিখেছেন দালাল বাজারের জমিদার রাজা গৌর কিশোর রায় চৌধুরী ১৭৬৫ খ্রিষ্টাব্দে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী থেকে রাজা উপাধি পেয়েছেন। তার পূর্বপুরুষরা ১৬২৯ থেকে ১৬৫৮ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে দালাল বাজার আসেন। তার বংশের প্রথম পুরুষের নাম লক্ষ্মী নারায়ণ রায় (বৈষ্ণব) এবং রাজা গৌর কিশোরের স্ত্রীর নাম লক্ষ্মী প্রিয়া। অনেক ঐতিহাসিকের মতে, লক্ষ্মী নারায়ণ রায় বা লক্ষ্মী প্রিয়ার নাম অনুসারে লক্ষ্মীপুরের নামকরণ করা হয়।

 

আচঁলে মেঘনার মায়া ডাকাতিয়া বুকে, রহমতখালি বয়ে চলে মৃদু এঁকে বেঁকে।
নারিকেল সুপারি আর ধানে ভরপুর আমাদের আবাস ভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর।
নাম না জানা এক কবি তার কবিতার ৪টি পংক্তির মাধ্যমে লক্ষ্মীপুরের পুরো বর্ণনা দিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলার ব্র্যান্ডিংঃ “সয়াবিন ও নারিকেল সুপারির লক্ষ্মীপুর”

 

লক্ষ্মীপুর জেলার প্রতিষ্ঠাকাল-

লক্ষ্মীপুর নামে সর্বপ্রথম থানা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬০ সালে। এরপর ১৯৭৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন ৫নং বাঞ্চানগর ইউনিয়ন লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় রূপান্তরিত হয়। পরে এই পৌরসভাটির বিস্তৃতি ঘটে। রায়পুর, রামগঞ্জ, রামগতি ও লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নিয়ে ১৯৭৯ সালের ১৯ জুলাই লক্ষ্মীপুর মহকুমা এবং একই এলাকা নিয়ে ১৯৮৪ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় লক্ষ্মীপুর জেলা।

লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান ও সীমানা-

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাংশে ২২°৩০´ থেকে ২৩°১০´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৩৮´ থেকে ৯০°০১´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থান। রাজধানী ঢাকা থেকে এ জেলার দূরত্ব প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় সদর থেকে প্রায় ১৫৭ কিলোমিটার। এ জেলার উত্তরে চাঁদপুর জেলা; পূর্বে ও দক্ষিণে নোয়াখালী জেলা এবং পশ্চিমে মেঘনা নদী, ভোলা জেলা ও বরিশাল জেলা অবস্থিত। লক্ষ্মীপুর শহর রহমতখালি নদীর তীরে অবস্থিত।

লক্ষ্মীপুর জেলার আয়তন ও জনসংখ্যাঃ

লক্ষ্মীপুর জেলার মোট আয়তন ১৪৫৬ বর্গ কিঃ মিঃ। সদর-৫১৫ বর্গ কিঃ মিঃ, রায়পুর-২০১ বর্গ কিঃ মিঃরামগঞ্জ-১৬৯ বর্গ- কিঃ মিঃ, রামগতি-২৮৮ বর্গ কিঃ মিঃকমলনগর-২৮৩ বর্গ কিঃ মিঃ ।
২০১১ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী লক্ষ্মীপুর জেলার মোট জনসংখ্যা ১৭,২৯,১৮৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮,৬৬,৮৬৮ জন এবং মহিলা ৮,৬২,৩২০ জন। মোট জনসংখ্যার ৯৫.৩১% মুসলিম, ৪.৬৬% হিন্দু এবং ০.০৩% বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্মের অনুসারী।

ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সংখ্যাঃ
মসজিদ-৩৫৩৯ টি,
মন্দির-৪৫ টি,
গীর্জা-০১ টি

৫টি উপজেলা, ৬টি থানা, ৪টি পৌরসভা, ৫৮টি ইউনিয়ন, ৪৪৫টি মৌজা, ৫৩৬টি গ্রাম ও ৪টি সংসদীয় আসন নিয়ে গঠিত। মোট গ্রামের সংখ্যা ৫৪৭ টি। মোট মৌজার সংখ্যা ৪৮১ টি।

লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার হারঃ লক্ষ্মীপুর জেলার শিক্ষার হার ৬২%
লক্ষ্মীপুরে সংসদীয় আসনঃ ৪টি ।
১. লক্ষ্মীপুর – সংসদ সদস্য জনাব এ কে এম শাহাজাহান কামাল। লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর)
২.রামগঞ্জ – সংসদ সদস্য জনাব আনোয়ার হোসেন খান। লক্ষীপুর-১ (রামগঞ্জ)
৩.রায়পুর – সংসদ সদস্য জনাব এডভোকেট নুরউদ্দিন চৌধুরী নয়ন । লক্ষ্মীপুর-২ (সদর ও রায়পুর)
৪. রামগতি – সংসদ সদস্য জনাব আব্দুল মান্নান। লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি ও কমলনগর)

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা চেয়ারম্যানঃ জনাব সালাহ্ উদ্দিন টিপু

 

লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি জমির পরিমাণঃ মোট কৃষি জমির পরিমাণ ১১২২৬৩ হেক্টর। আবাদী-১০৯৬৭৩ হেক্টর, চাষযোগ্য অনাবাদী-৩৫৯০ হেক্টর
বোরো-৩০০৭১ হেক্টর, আউশ-৩৭৫২০হেক্টর, রোপা আমন-৮৪১০২হেক্টর, সয়াবিন-৩৯২৮৭ হেক্টর, আলু-৩১০ হেক্টর, সবজি-৩৯৪৬ হেক্টর।

 

লক্ষ্মীপুরের নদ-নদীঃ

মেঘনা – ডাকাতিয়া, কাটাখালি, রহমতখালী, ভুলুয়া ও জরিরদোনা লক্ষ্মীপুর জেলার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য নদী। প্রশস্ততম মেঘনা নদী লক্ষ্মীপুর জেলাকে বৃহত্তর বরিশাল জেলা থেকে পৃথক করেছে। জেলায় মোট ১১৮ বর্গকি. মি. নদীপথ রয়েছে। নদীপথ জেলার মোট আয়তন ২৩%। ডাকাতিয়া: আন্ত: সীমান্ত এই নদী উৎস পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে। নদীটি উজানে ফেনী নদী দ্বারা বিভক্ত এবং এটির প্রধান স্রোত চেৌদ্দগ্রাম খাল দিয়ে আবার ফেনী নদীর সাথে যুক্ত হয়েছে। দক্ষিণে এর শাখা নোয়াখালী খাল গঠন করেছে এবং পশ্চিমে শেখেরহাটের কাছ থেকে দক্ষিণে রায়পুরের কাছে মেঘনায় মিলেছে। এই স্থানেই ডাকাতিয়ার নতুন ও তীব্র স্রোতধারা চাঁদপুর খাল দিয়ে মেঘনায় পড়েছে। মেঘনা : লক্ষ্মীপুর জেলার পশ্চিমাঞ্চল মেঘনা নদী বিধৌত। চাঁদপুর জেঁলার দক্ষিণ পূর্ব দিক থেকে লক্ষ্মীপুর জেলার উত্তর-পশ্চিম কোন দিয়ে রায়পুর উপজেলায় এই নদী লক্ষ্মীপুরে প্রবেশ করেছে। প্রতি বছর বর্ষায় মেঘনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্লাবন সৃষ্টি করে। মেঘনা নদী লক্ষ্মীপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার চারটিই এই নদী বিধৌত। কাটাখালি, রহমতখালী ও ভুলুয়া নদী পশ্চিমে মেঘনায় মিশেছে।

আরো পড়ুন, দালাল বাজার খোয়া সাগর দীঘি  click

আরো পড়ুন-মজু চৌধুরী হাট  click

 

জেলার সাধারণ ইতিহাসঃ
ত্রয়োদশ শতাব্দীতে লক্ষ্মীপুর ভুলুয়া রাজ্যের অধীন ছিল। মুঘল ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনামলে লক্ষ্মীপুরে একটি সামরিক স্থাপনা ছিল। ষোড়শ থেকে ঊনবিংশ শতাব্দী পর্যন্ত এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপন্ন হত এবং বাইরে রপ্তানি হত। লবণের কারণে এখানে লবণ বিপ্লব ঘটে। স্বদেশী আন্দোলনে লক্ষ্মীপুরবাসী স্বতঃস্ফুর্ত অংশগ্রহণ করে। এ সময় মহাত্মা গান্ধি এ অঞ্চল ভ্রমণ করেন। তিনি তখন প্রায়ই কাফিলাতলি আখড়া ও রামগঞ্জের শ্রীরামপুর রাজবাড়ীতে অবস্থান করতেন। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯২৬ সালের জুন মাসে লক্ষ্মীপুর সফরে আসেন।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাবলি ও স্মৃতিচিহ্নঃ
১৯৭১ সালের ৬ জুলাই মুক্তিযোদ্ধারা লক্ষ্মীপুর শহরের রহমতখালি সেতুর কাছে অতর্কিত হামলা চালিয়ে ৭২ জন পাকসেনাকে হত্যা করে। ২৫ অক্টোবর সদরের মীরগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকসেনাদের এক সম্মুখ লড়াইয়ে পাকবাহিনীর মেজরসহ ৭০ জন সৈন্য ও ৪১ জন রেঞ্জার নিহত হয়। রামগঞ্জ উপজেলার ফতেহপুর দীঘির পাড়ে পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের এক লড়াই সংঘটিত হয়। এ লড়াইয়ে বহুসংখ্যক পাকসেনা নিহত হয়। পরবর্তীতে পাকসেনারা ১৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে রামগঞ্জ ক্যাম্পে এনে হত্যা করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রামগতি উপজেলার জমিদার হাটের বাঁকে পাকসেনাদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াইয়ে কয়েকজন রাজাকারসহ ১৭ জন পাকসেনা নিহত হয়।
স্মৃতিচিহ্ন-
গণকবর: ৪টি
বধ্যভূমি: ২টি
স্মৃতিস্তম্ভ ৩টি

লক্ষ্মীপুর জেলার ঐতিহ্যঃ

লক্ষ্মীপুর জেলায় অনেক বিখ্যাত স্থাপনা রয়েছে যেগুলো ঐতিহাসিক এবং স্থাপত্য শৈলীর দিক থেকে অনেক উন্নত। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য রামগতি একটি উপযুক্ত স্থান। রামগতি বাজারের পশ্চিম দিক দিয়ে মেঘনা নদী বঙ্গোপসাগরে পড়েছে। এখানকার নৈসর্গিক দৃশ্য খুবই মনোরম। এটি একটি প্রাকৃতিক সমুদ্র সৈকত। পর্যটকরা এখানে বসে ইলিশ ধরার রোমাঞ্চকর দৃশ্য উপভোগ করতে পারে। রামগতি ভ্রমণের সময় পর্যটকরা সেখানকার মিষ্টি এবং মহিষের দুধে তৈরী ঐতিহ্যবাহী দই সংগ্রহ ও উপভোগ করতে পারে। এখানে কুয়াকাটার মত সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের দৃশ্য অবলোকন করা যায়। রঙ-বেরঙের পালতোলা নৌকার সারি পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ে। এ দৃশ্য তুলনাহীন।

বন বিভাগের বিশাল বনায়ন, কেয়াবনের সবুজ বেস্টনীও নজরে আসবে। যাতে সড়ক ও নৌপথে পর্যটকদের যাতায়াতে সুবিধা হয়। পর্যটন স্পটগুলো সরকারের সংরক্ষণ নীতিমালার আওতায় রাখা এবং এর উন্নয়ন প্রয়োজন। পর্যটকদের সুবিধার্থে আধুনিক হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট স্থাপন করা প্রয়োজন। আমত্মজেলা বাস টার্মিনাল পর্যমত্ম রামগতি-সোনাপুর রোড পাকা করা প্রয়োজন। লক্ষ্মীপুরে ঐতিহাসিক স্থান, মসজিদ ও মাজার রয়েছে, যেগুলো পর্যটকরা ভ্রমণ করতে পারে। লক্ষ্মীপুরের কাঞ্চনপুরে মহান সাধক হযরত মিরান শাহ (রঃ)-এর মাজার এবং দুইশত বছরের অধিক পুরাতন রামগঞ্জের শ্যামপুর দায়রা শরীফ ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় গুরত্বপূর্ণ স্থান । রামগতিতে অবস্থিত দায়রা শরীফও ধর্মানুরাগী মানুষকে আকর্ষণ করে। দালাল বাজারের কামানখোলা জমিদার বাড়ি একটি দর্শনীয় স্থান। দুই শত বছরের প্রাচীন রায়পুরের তিতাখাঁ জামে মসজিদ স্থানীয়ভাবে জ্বীনের মসজিদ নামে পরিচিত। একশত পনের বছরের প্রাচীন কাঞ্চনপুর জমিদার বাড়ি জামে মসজিদ এবং মান্দারী বাজার মসজিদ সৌন্দর্য্য ও স্থাপত্য শৈলীর জন্য প্রসিদ্ধ।

 

লক্ষ্মীপুর জেলার প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বঃ

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব:
> মোহাম্মদ উল্যাহ ( বাংলাদেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি)
> মোহাম্মদ তোহা
> আলহাজব জমির আলী
> জনাব আ স ম আব্দুর রব
> মেজর জেনারেল (অবঃ) ডাঃ এ এস এম মতিউর রহমান (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা)

সিভিল সার্ভেন্ট:
> আবুল আহসান চৌধুরী (সার্কের প্রথম মহাসচিব ও প্রাক্তন পররাষ্ট্র সচিব)
> ইসমাইল জবিউলস্নাহ (প্রাক্তন সচিব)
> কে এম নাজমুল আলম সিদ্দিকী (সাবেক সচিব)

> শহুদুল হক (প্রাক্তন আই জি পি)
> মোঃ বদিউজ্জামান (চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন)
> জনাব মোঃ রহুল আমিন (সাবেক প্রধান বিচারপতি)

শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক:
> অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী ( শিক্ষাবিদ ও প্রাক্তন মন্ত্রী পরিষদ সদস্য)
> ডঃ আবদুল মতিন চৌধুরী (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চান্সেলর)
> ডঃ মমতাজ উদ্দিন চৌধুরী (ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর )

> কাজী মোতাহার হোসেন (সাহিত্যিক)
> সেলিনা হোসেন (কথা সাহিত্যিক)
> ডঃ মফিজুল্যাহ কবির (ইতিহাসবিদ)

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব:
> দিলারা জামান
> জনাব রামেন্দ্র মজুমদার

> ফেরদৌসী মজুমদার
> এ.টি এম. শামসুজ্জামান
> মাহফুজ আহমেদ
> তারিন

ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব:
> জনাব হারুনুর রশিদ (ক্রীড়া সংগঠক ও সাবেক সংসদ সদস্য)
> নিশাত মজুমদার (প্রথম বাংলাদেশী নারী এভারেষ্ট বিজয়ী)

 

লক্ষ্মীপুর জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থাঃ

সড়ক পরিবহনের গুরুত্ব বিবেচনায়, লক্ষ্মীপুর জেলার অবস্থানগত গুরুত্ব অনেক বেশী। লক্ষ্মীপুর সদরস্থ মজু চৌধুরীর হাট এবং রামগতি উপজেলার মেঘনা ঘাট ইলিশ উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত। এছাড়া রায়পুর উপজেলায় রয়েছে এশিয়ার বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র।এ স্থান সমূহ পর্যটকদের নিকট আকর্ষণীয় স্থান রূপে চিহ্নিত।শুধুমাত্র সড়ক পথেই লক্ষ্মীপুরের সাথে যোগাযোগ সম্ভব।তাই এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সড়ক যোগাযোগই মাত্র অবলম্বন।এশিয়ান হাইওয়ের সাথে সংযুক্ত মহাসড়ক অতিক্রম করে ফেনী অথবা লাকসাম (কুমিল্লা)-র মধ্যে দিয়ে লক্ষ্মীপুর জেলায় সড়ক পথে পৌঁছানো সম্ভব।

লক্ষ্মীপুর সদরের সাথে রামগঞ্জ, রায়পুর ও রামগতি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ রয়েছে।অন্যদিকে ঢাকা হতে যাত্রা শুরু করে এশিয়ান হাইওয়ে অতিক্রম করে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার মধ্যে দিয়ে সহজেই রামগঞ্জ উপজেলায় পৌছানো যায়। সড়ক পরিবহন ঢাকা – লক্ষ্মীপুর এবং চট্টগ্রাম-লক্ষ্মীপুর-এ দু’টি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়মিত লক্ষ্মীপুরের সাথে দু’টি বিভাগীয় শহরের যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।আর রাজধানী ঢাকার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ রক্ষা হয় ঢাকা-রায়পুর-লক্ষ্মীপুর, ঢাকা-রামগঞ্জ এবং ঢাকা-রামগতি সড়ক পরিসেবার মাধ্যমে।

লক্ষ্মীপুর থেকে রংপুর , সিলেট রুটে রয়েছে brtc সহ আরো কিছু পরিবহন । লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী ঘাট থেকে ভোলা , বরিশাল রুটে যাতায়ত করে সী-ট্রাক , লঞ্চ ,ফেরী ।

 

 

তথ্য সূত্র:

লক্ষীপুর এক্সপ্রেস

২০০১ এবং ২০১১ সালের আদমশুমারী প্রতিবেদন।

জেলা তথ্যবাতায়ন

ইউকিপিডিয়া

 

 

Related Articles

how do you feel about this website ?

Back to top button
%d bloggers like this: